ওই সোবাকি রেসিপি – ৩০ মিনিটে তৈরি গরমকালের পারফেক্ট সাইড ডিশ
সহজ ওই সোবাকি রেসিপি যা নতুনরাও ৩০ মিনিটে বানাতে পারবেন। ঝাল আর টাটকা স্বাদের এই কোরিয়ান শশা কিমচি গরমে ভাত খাওয়ার মজাই বদলে দেবে। আজই ট্রাই করুন!

গরমকালের বেস্ট ডিশ ওই সোবাকি, কেন এখনই বানাবেন?
মচমচে টেক্সচার আর ঠান্ডা মশলার স্বাদে ভরপুর ওই সোবাকি। নতুনরাও সহজেই বানাতে পারবেন এই ওই সোবাকি রেসিপি। জটিল কোনো প্রসেস নেই, মাত্র ৩০ মিনিটেই একটা পারফেক্ট সাইড ডিশ রেডি। গরমকালে যখন কিছুতেই খেতে ইচ্ছে করছে না, তখন এই ম্যাজিক ডিশটা ভাতের প্লেট শেষ করিয়ে ছাড়বে।
ওই সোবাকি বানানোর আগে যা জানা জরুরি
শশা হিসেবে চুইচিং বা বেক শশা বেছে নিন। সাধারণ শশার চেয়ে এগুলোতে ক্রাঞ্চ অনেক বেশিদিন থাকে। ১kg শশার জন্য লাগবে মোটা নুন ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ পাতা ১০০g, লাল মরিচ ২টা, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, ফিশ সস ৩ টেবিল চামচ, কোরিয়ান চিলি পাউডার ৩ টেবিল চামচ, plum extract ১ টেবিল চামচ আর সামান্য আদার রস।
শশা ধুয়ে দুই মাথা কেটে ক্রস করে চিরে নিন, তবে একদম শেষ পর্যন্ত কাটবেন না – ২/৩ অংশ পর্যন্ত কাটলেই হবে। নোনা জলে (৪ কাপ জলে ২ টেবিল চামচ নুন) ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
স্টেপ বাই স্টেপ ওই সোবাকি রেসিপি – বিগিনারদের জন্য
স্টেপ ১: ফিলিং তৈরি করুন
পেঁয়াজ পাতা ৩cm লম্বা করে কাটুন, লাল মরিচ চিকন স্ট্রিপে কাটুন। একটা বাটিতে পেঁয়াজ পাতা, লাল মরিচ, রসুন বাটা, চিলি পাউডার, ফিশ সস, plum extract আর আদার রস দিয়ে ভালো করে মিক্স করুন। খেয়াল রাখবেন খুব বেশি চাপ দিয়ে মাখলে পেঁয়াজ পাতা নরম হয়ে যাবে।
স্টেপ ২: শশায় স্টাফিং ভরুন
নোনা জল থেকে শশা তুলে ঠান্ডা জলে ২-৩ বার ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। ক্রস কাটা অংশে মশলা ভালো করে ঢুকিয়ে দিন। একটা কন্টেইনারে সাজিয়ে রাখুন আর বাকি মশলা ওপরে লাগিয়ে দিলেই কাজ শেষ।
স্টেপ ৩: ম্যাচিউর করা আর সংরক্ষণ
রুম টেম্পারেচারে আধদিন রেখে দিন যাতে মশলা ভালো করে মিশে যায়। তারপর ফ্রিজে রাখুন আর ৩-৪ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন, তখনই সবচেয়ে মচমচে আর টেস্টি লাগবে। আরও K-Food রেসিপি জানতে চাইলে delicaglobal-এর ব্লগ ঘুরে আসুন।
ওই সোবাকি আরও টেস্টি করার টিপস
প্রথমত, যতটা সম্ভব মোটা আর শক্ত শশা বেছে নিন। নরম শশা থেকে খুব তাড়াতাড়ি জল বেরিয়ে আসে।
দ্বিতীয়ত, কিমচি গ্রেড মোটা চিলি পাউডার ইউজ করুন – রঙ সুন্দর হয় আর ঝাল মাইল্ড থাকে।
তৃতীয়ত, পেঁয়াজ পাতার জায়গায় spring onion বা সেলেরি দিয়েও ট্রাই করতে পারেন, আলাদা টেস্ট পাবেন।
গরমকালে হারিয়ে যাওয়া ক্ষুধা ফিরিয়ে আনতে ওই সোবাকি পারফেক্ট, তাই না? এই উইকএন্ডে বাড়িতে বানিয়ে দেখুন। কোরিয়ান সাইড ডিশের ম্যাজিকে পুরো আসক্ত হয়ে যাবেন। বিদেশে থেকে কোরিয়ান ingredients মিস করলে delicaglobal থেকে অর্ডার করে নিতে পারবেন।
ওই সোবাকির সাথে কী কী খেলে মজা দ্বিগুণ
ওই সোবাকি মিট ডিশের সাথে দারুণ যায়। grilled pork belly বা bulgogi-র পাশে রাখলে greasy feel কমিয়ে দেয়, আর ভাতের সাথে খেলে তো কথাই নেই। cold noodles বা bibim noodles-এর ওপর দিয়ে দিলে ঠান্ডা স্বাদ দ্বিগুণ হয়ে যায়।
কিমচি স্টু বানানোর সময় পুরনো কিমচির জায়গায় ওই সোবাকি ট্রাই করে দেখুন। ব্রথ অনেক বেশি ক্লিন আর রিফ্রেশিং হবে। গরমে appetite কমে গেলে একটা ওই সোবাকিই যথেষ্ট, তাই এই উইকএন্ডে মার্কেট থেকে কয়েকটা এক্সট্রা শশা কিনে আনুন।
সাধারণ প্রশ্ন
- ওই সোবাকি কতদিন পর্যন্ত ভালো থাকে?
- ফ্রিজে রাখলে ৩-৪ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলাই বেস্ট, তখন সবচেয়ে মচমচে আর টেস্টি লাগে। এক সপ্তাহ পর্যন্ত খাওয়া যায়, তবে সময় যত যাবে জল বেরোবে আর টেক্সচার নরম হয়ে যাবে।
- সাধারণ শশা দিয়ে কি ওই সোবাকি বানানো যায়?
- যায় তবে চুইচিং বা বেক শশা অনেক বেশি ক্রিস্পি থাকে। সাধারণ শশায় জলের পরিমাণ বেশি থাকে তাই তাড়াতাড়ি নরম হয়ে যায় – বানানোর দিন বা পরের দিনই খেয়ে ফেলা ভালো।
- ওই সোবাকি বেশি নোনতা হয়ে গেলে কী করব?
- শশা ভেজানোর পর ঠান্ডা জলে ৩-৪ বার ভালো করে ধুয়ে নিন। আগে থেকে বানানো ওই সোবাকি নোনতা লাগলে মশলা ঝেড়ে ফেলে জলে হালকা ধুয়ে নিয়ে নতুন মশলা দিয়ে আবার মেখে নিতে পারেন।
- পেঁয়াজ পাতা না থাকলে অন্য কিছু দিয়ে রিপ্লেস করা যাবে?
- spring onion, সেলেরি বা mustard greens দিয়ে বদলাতে পারবেন। প্রত্যেকটার টেস্ট আলাদা তাই আপনার পছন্দমতো বেছে নিন। পেঁয়াজ কুচি সামান্য দিলে মিষ্টি স্বাদ আর ক্রাঞ্চ বেড়ে যায়।



